সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে গুলিতে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নামে এক জেলে নিহতের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ। তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
জেলেদের অভিযোগ, বনবিভাগের সদস্যরা গুলি চালিয়ে আমিনুরকে হত্যা করেছেন। অন্যদিকে, বনবিভাগ বলছে, ধস্তাধস্তির সময় রাইফেল থেকে গুলি বের হয়ে তিনি আহত হন।
সোমবার (১৮ মে) সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শতমুখি খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুর রহমান শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বাসিন্দা।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নিহতের সঙ্গে থাকা জেলেদের দাবি, কয়েকদিন আগে বৈধ পাস নিয়ে চার জেলে দুটি নৌকায় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান। সোমবার সকালে তারা শতমুখি খালে কাঁকড়া ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বনবিভাগের খুলনা স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা তাদের ডাক দেন। জেলেরা কাছে না গেলে বন বিভাগের সদস্যরা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে আমিনুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহতের পরিবারের খোঁজ নিতে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের বাড়িতে যান। এ সময় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম মুঠোফোনে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
তবে বন কর্মকর্তাদের দাবি, সোমবার দুপুরে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের আওতাধীন পাটকোস্টা টহল ফাঁড়ির নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকায় স্মার্ট টহল দল দুটি নৌকা দেখতে পেয়ে এগিয়ে যায়। এ সময় জেলেরা ডাঙায় উঠে যান।
বনবিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলেদের নৌকা জব্দের চেষ্টা করলে তারা দা, কুড়াল ও বৈঠা নিয়ে স্মার্ট টহল দলের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে টহল দলের সদস্যদের কাছ থেকে চাইনিজ রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির সময় রাইফেলটি ভেঙে যায়। তখন রাইফেল থেকে গুলি বের হয়ে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন।
বনবিভাগ আরও জানায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে গাবুরায় নেওয়ার পথে ওই জেলের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় কিছু বিক্ষুব্ধ লোকজন গাবুরা গ্রামের পাশের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস ও স্টেশন অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় বনবিভাগের পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। বনবিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় স্মার্ট টহল দলের ওসি বাদী হয়ে কয়রা থানায় মামলা দায়ের করছেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

